Posted By

৬৫ হাজার টাকায় শিল্প বিপ্লব

Career 181

লিখাটা একটা বাস্তব ঘটনা দিয়ে শুরু করছি। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় এক দশক পরেও রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের কালুহাটি গ্রামের বেশির ভাগ পরিবার ছিল নিম্নআয়ের। ওই সময় গ্রামের অত্যন্ত অভাবী পরিবারের ১০/১১ বছরের ছেলে আমিরুল ইসলাম ঢাকায় গিয়ে কাজ নেন একটি কারখানায়। টানা ৯ বছর সেখানেই কাজ করেন। ১৯৮৫ সালের দিকে আমিরুলের মাথায় আসে, এ কাজ তিনি গ্রামের মানুষকে শেখালে গ্রামের অভাব দূর করা সম্ভব। তিনি গ্রামে চলে আসেন কিন্তু তখনও একটি কারখানা করার মতো পুঁজি তার হাতে ছিলনা। তিনি গ্রামের মানুষকে এক বিশেষ ব্যবসায়ের সম্ভাবনার কথা বোঝালেন। কিন্তু ব্যবসা চলবে কিনা এ আশঙ্কায় কেউ এগিয়ে আসতে চায় না। এমন সময় এগিয়ে এলেন গ্রামের বেকার যুবক নওশাদ আলী সরকার। তিনি কারখানায় পুঁজির যোগান দিলেন। একটি ঘর নিয়ে তারা কারখানা শুরু করেন। শুরু হলো কাঁচামাল কিনে নিয়ে এসে পন্য উৎপাদন আর বাজারে বিক্রির কাজ। এভাবে দিনে দিনে ব্যবসার সম্ভাবনার কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পরায় কালুহাটি গ্রামের মানুষ হঠাৎই যেন আলাদিনের চেরাগ পেলো। ঘটে বসলো এক বিশেষ শিল্প বিপ্লব। গ্রামের অলিগলি পেরিয়ে বাড়িতে বাড়িতে ডুকে পরলো এই বিপ্লবের জয়ধ্বনি। কুটির শিল্পের আদলে গড়ে উঠেছে সেই শিল্পের কারখানা। এ কারখানার সুবাদেই কয়েক বছরের মধ্যে বদলে গেছে অভাবী এ গ্রামের চেহারা। এখন বলতে গেলে এইগ্রামে বেকার নেই কেউ। এখানে কাজ করছেন পরিবারের সবাই। ছেলে মেয়ে থেকে শুরু করে গৃহবধূরাও যুক্ত এই শিল্প বিপ্লবে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে এ কারখানায় কাজ করে তাদের হাত খরচের টাকা উপার্জন করছে। কিছু কিছু পরিবারের মেয়েরা কারখানা থেকে ফরমায়েশ নিয়ে নিজেদের বাড়িতে বসেই পন্য তৈরির কাজ করছে। গ্রামের এ কারখানাকে কেন্দ্র করে পন্যের মোড়ক তৈরি করেও অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। সব মিলিয়ে গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার কারখানা বানিয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন। আর তাতে তিন থেকে চারশ’ শ্রমিকের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। আশপাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে শিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার যুবকরা এসে এখানে কাজ নিয়েছে। আর এই আলাদিনের চেরাগের নাম সেন্ডেল তৈরির মেশিন, এই শিল্প বিপ্লবের নাম পাদুকা শিল্প বিপ্লব।  আপনিও অল্প পুজিতে বা অধিক পুজি নিয়ে আজি শুরু করতে পারেন এই সেন্ডেল বা স্লিপার তৈরির ব্যবসা। মাত্র ১ লক্ষ টাকায় শুরু করার মতো ব্যাবসা এটি। মেশিন মুল্য অফ সিজনে ৬৫ হাজার টাকা মাত্র। মেশিন কিনলে ফ্রি ট্রেনিং এর ব্যবস্থা ও ডেলিভারিতো থাকছেই। সাথে পাবেন ৩ টি ডিজাইন এর ডাইস।  আসুন এবার একটু আয় ব্যয়ের হিসেব করি,,,  যদি ৩ জন লোক কাজ করে তবে আপনি প্রতি শিফটে (৮ঘন্টায়) সেন্ডেল বা স্লিপার পাবেন ৮০০-১০০০ পিস, তাহলে মাসে পাবেন ৯০০x৩০= ২৭০০০ পিস। যদি সকল খরচ বাদ দিয়ে শুধু ৫ টাকা লাভ হয় তাহলে প্রতি মাসে লাভ হবে ২৭০০০x৫= ১৩৫০০০ টাকা। যদি মেশিন বা শিফট বাড়ান তবে অধিক আয় করাও সম্ভব। হিসেবের সহযার্থে সকল জুতা বা সেন্ডেল এর বাজার মুল্য কে ৩ দিয়ে ভাগ দিবেন, যদি ৬০ টাকা সেন্ডেল হয়, তবে প্রত্যেক ভাগে ২০ টাকা করে, প্রথম ২০ টাকা তৈরি খরচ, দ্বিতীয় ২০ টাকা আপনার ও পাইকারের লাভ, তৃতীয় ২০ টাকা দোকানদারের লাভ। যদিও জুতার প্রাইজ অনেক বেশি বর্তমান বাজারে, এটা শুধু বুঝানোর জন্যই দিলাম। চেষ্টা করলে ইনশাআল্লাহ আপনিও হতে পারেন কালুহাটি গ্রামের আমিরুলের মতো আলাদিনের চেরাগের অধিকারী। 

Topics: সাফল্য আয় ইনকাম উদ্যোক্তা

৬৫ হাজার টাকায় শিল্প বিপ্লব

Login to comment login

Latest Jobs