Posted By

হীমাদ্রির নীল কাব্য "মোঃ রফিকুল ইসলাম রাফির লেখা উপন্যাস(১ম পর্ব)

Education 18

" হীমাদ্রির নীল কাব্য " মোঃ রফিকুল ইসলাম রাফি

        #পর্ব সংখ্যা - ১ম # --------------#####--------------

" আমাদের স্বপ্ন গুলো শুরু হয় , এক একটা শব্দ থেকে । আবার অনেক গুলো শব্দ মিলে তৈরি হয় আমাদের গল্পটা । যে গল্পের পুরোটা অংশ জুড়েই তুমি আছো । কিছু অংশ জুড়ে হয়তো বা আমিও ছিলাম । যে গল্পের শুরু যেখানে সেখানে কোনো পরিবর্তন নেই ।জেনে বুঝেও গল্পটা ভালোই লাগে । কে জানে , ভালো লাগাটা যে বোধহয় এরকমেই । গল্পটার শেষে তুমি হারিয়ে যাও । অবশ্য হারিয়ে যাওয়ার তো কথা ছিল না । তা না হলে এতো গুলো তারার মাঝে একটা তারা খুঁজবো কি করে ? আর বলবো কাকে আমি ভালো নেই ।  এবার মূল গল্পে আসা যাক , হীমাদ্রি দশম শ্রেণীতে পড়ে । এক মাস পর এসএসসি পরীক্ষা । মেঘের সাথে তার পরিচয় টা এভাবে । মেঘ হিমছড়ির বন্ধু । আর হিমছড়ির ছোট ভাই হীমাদ্রি । তো মেঘ প্রায় সময় হীমাদ্রি কে দেখলে সালাম দেয় ভালো আছে কিনা তা জিজ্ঞেস করে । এরকম চলতে থাকে । আর হীমাদ্রি অবাক হয়ে যেতো , বড় ভাইয়ের বন্ধু বড় ভাই ।অথচ কোনো দিন দেখা হলে আগে সালাম দিতে পারে নি ।  প্রায় সময় হিমছড়ির সাথে মেঘ হীমাদ্রিদের বাসায় আসে । কথা হয় , দেখা হয় ।  এর মধ্যেই হীমাদ্রির পরীক্ষা শেষ । মার্চের শেষে হীমাদ্রি বেসিক  কম্পিউটার ডিপ্লোমাতে ভর্তি হয় । সেখানে চার মাসের কোর্স ।  তখন নানা বিষয় যেমন পড়াশোনা কেমন চলছে , কেমন আছে , সারাদিন কোথায় কি ভাবে সময় পার করতে হয় সব খবর নিতো মেঘ । ধরে নেওয়া যেতে পারে বড় ভাই হিসেবে উপদেশ মাত্রা । এর মধ্যে এসএসসির ফল প্রকাশ করা হয়েছে  । বিজ্ঞান বিভাগ থেকে হীমাদ্রি ভালো ফলাফল করেছে । সেদিন বিকেলে মেঘ হীমাদ্রিদের বাসায় আসে । রাতে খাওয়া দাওয়ার পর থেকে যায় । সম্পর্ক গুলো যেন একটা আত্মার বন্ধনের মতো । শীতল সুন্দর ।   তো হীমাদ্রিদের এসএসসি ফল পাত্রী কৃতিত্বের জন্য সংবর্ধনা দেওয়া হবে । উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হীমাদ্রি একটা ক্রেস্ট আর সম্মাননা পায় । অত্যন্ত আনন্দিত ছিলো সেদিন । পরে হীমাদ্রি ভর্তি হলো নিজ এলাকার শহরেই একটা  কলেজে । বিজ্ঞান বিভাগেই আছে  ।   আর  মেঘ হীমাদ্রিকে প্রায় সময় সময় নামাজ পড়তে , ভালো আচরণ করতে ,বড়দের সম্মান করতে তাছাড়া পড়াশোনা ভালো করে চালিয়ে যেতে নানান উপদেশ দিতো । সে প্রায় সময় নানান যায়গায় বেরাতে নিয়ে যেতো ছোট ভাইয়ের মতো আদর করতো । হীমাদ্রির প্রায় বন্ধুরাই জানতো মেঘ তার আপন ভাই ।  আর নীলাদ্রির সাথ ও অদ্ভুত ভাবেই পরিচয় । অনলাইন থেকে । নীলাদ্রির সাথে প্রথম কথা হয় ১৮ ই অক্টোবর ২০১৮ ইং , ০৩ কার্তিক ১৪২৫ বাংলা । রোজ বৃহস্পতিবার ছিলো । সকাল বেলা । হীমাদ্রি একটা জুনিয়র কোচিংয়ে ক্লাস নিচ্ছে । স্টুডেন্ট পরীক্ষা দিচ্ছে । তো কোনো এক পর্যায়ে সে অনলাইনে যায় । নীলাদ্রির  কভার ফটো টা কপি করে হীমাদ্রি । আর নীলাদ্রি সেখানে সুন্দর করে একটা মন্তব্য করে ফেলেছে । তবে সেদিন লজ্বায় হীমাদ্রি পোস্ট টি ডিলিট করে দিতে বাধ্য হয়েছিলো । বিকাল ৩.০ বাজে । হীমাদ্রি অনলাইনে ডুকে দেখে নীলাদ্রি হীমাদ্রির সব পোস্টে লাইক দিয়ে নটিফিকেশ ভরে দিয়েছে । আর মেসেঞ্জারে লাইক চিহ্ন কয়েকটি । সাথে একটা স্টিকার । তো হীমাদ্রি ভাবলো একটা সালাম দিয়ে ভদ্র লোককে জিজ্ঞেস করি কে উনি ? সেই থেকে কথা বলা শুরু । এক পর্যায়ে কথা বলতে বলতে কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে থাকে এরকম । দিনের অধিকাংশ সময় হীমাদ্রি নীলাদ্রির সাথে কথা বলে । ঘন্টার পর ঘন্টা চ্যাটিং করে । তবে নীলাদ্রি খুব ভালো মনের মানুষ । বয়সে অনেক বড় হলেও হীমাদ্রির. সেটা ভাগ্য । কারণ এরকম একজন সুন্দর মনের মানুষ তাকে সময় দিচ্ছে । উপদেশ দিচ্ছে । একরকমের ভালো লাগা কাজ করেছিলো । কে কোথায় কখন কি করে তা সব সময় দুজন জানতো । জলহাওয়া শিক্ত ছিলো তখন , সারাটি দিন , মাস প্রহর । আকাশ ভরা আলো ছিলো । কখনো বা মেঘের বহর । তবুও ভালো লাগা নামক কালো ছায়া ছাড়েনি পিছু ।  ভালোবাসার শীর আমি করেছিলাম নিচু । আগামী চির কালের শুনিয়েছিলাম অমল আশার বাণী । সকলের ভালো হোক । মন হোক মমতার সন্ধানী ।

( চলমান )

Topics: উপন্যাস

হীমাদ্রির নীল কাব্য

Login to comment login

Latest Jobs