Posted By

প্রেমের নাম বেদনা-আব্দুস সামাদ আফিন্দী নাহিদ

Education 81

আমরা পাঁচ বন্ধু। খোকন,তুহিন রফিকুল,নাহিদ,আর আমি।ছোটবেলা থেকেই এক সাথে লেখাপড়া করে আসতেছি আমরা।   

স্থানীয় মানিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পাশ করে সবাই একই সাথে আবার  জামালগঞ্জ সরকারি  

মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। ভর্তি হওয়ার পর যখন দশম শ্রেণিতে উটলাম শুরু হল পড়ালেখার চাপ। সবাই পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত কারণ সামনে এস এস সি পরিক্ষা। সবাই ভাবছে কিভাবে ভাল একটা রেজাল্ট করা যায়। এসএসসি ভাল রেজাল্ট না করতে পারলে যে ভাল একটা কলেজে ভর্তি হওয়া যাবেনা। অবশেষে এস এস সি পরিক্ষা শেষ হল। আমরা সবাই ভাবলাম যে সবাই মিলে ঘুরতে গেলে কেমন হয়। সবার সম্মতিতে আমরা সবাই সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের শিমুল বাগান দেখতে গেলাম। সেখানে অনেক মজা হল আসলে পৃথিবীতে বন্ধু ছাড়া যে খালি খালি লাগে। সুখ দুঃখের সাথি একে অন্যর বিপদে পাশে দাঁড়ানো ছিল আমাদের বন্ধুদের আদর্শ। 

বন্ধু আমার আপন স্বজন,

বন্ধু আমার সব-

বন্ধুত্বে খুঁজে পাই আনন্দের ভুবন।    

এভাবেই সময় চলে যেতে যেতে এসএসসির ফলাফল দিল । সব থেকে ভাল রেজাল্ট করছে আমাদের মাঝ থেকে নাহিদ। সে পরিক্ষায় জিপিএ ৫পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।    নাহিদ একজন ভাল মনের মানুষ সবার সাথে ভাল ব্যবহার করে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পড়ত। তার ভাল রেজাল্টে সবাই খুশি কিন্তু বন্ধু হিসেবে আমরা খুশি হওয়ার কথা থাকলে আমরা খুশি হতে পারলাম না কারণ প্রতিবারের মতো এবারও ভাল রেজাল্ট করেছে সে।  আমরা ভাল রেজাল্ট করতে না পারায় মা বাবার কাছ থেকে অনেক বকাবকি শুনতে হয়েছে। আর কত এভাবে বকা শুনতে হবে এর কিছু একটা করতেই হবে বলে অন্য বন্ধুরা  ভাবল। তারা আমাকে বলল তুই আমাদের সাথে থাকবি কি না বল আমরা আজ এর একটা সমাধান বের করেই ছাড়ব।  

কিন্তু আমি বললাম দেখ বন্ধুরা সে ভাল ছাত্র সে তো ভালো রেজাল্ট করবেই আমরা পারিনা আমরা  লেখা পড়া করিনা তাই। খোকন তখন বলে উটল হইছে তোর থাকা লাগব না যা  করার আমরাই করব- এই বলে সে চলে গেল। শুরু হল কলেজে ভর্তি আমি,রফিকুল, খোকন, নাহিদ ভর্তি হলাম জামালগঞ্জ সরকারি কলেজে আর তুহিন     

আমাদের মাঝ থেকে  দুরে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে ভর্তি হল। দিন যায় রাত যায় হঠাৎ একদিন খোকন ও রফিকুল ভাবল নাহিদ কে আজ একটা কিছু করতে হবে যেই কথা সেই কাজ। কি করা যায় রফিকুল বলল যে ও লেখাপড়া যাতে না করতে পারে সেইরকম কিছু করতে হবে। 

রফিকুল ও খোকন মিলে একটা চিঠি লিখল টিক নাহিদের লেখা হুবহু কপি করে। তারপর সেই চিঠি একটি মেয়ের মাধ্যমে নাহিদা নামের একটি মেয়ের কাছে পৌছে দিল। নাহিদা মেয়েটি তখন জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে।  নাহিদার বাড়ি নয়হালট গ্রামে তারা দুই ভাই দুই বোন। নাহিদা ছিল ধনী পরিবারের মেয়ে বাবার টাকা পয়সার অভাব নেই। যখনে মেয়েটি চিঠিটি পেল-তারপর খুলে পড়ল চিঠিতে লেখা ছিল--

প্রিয় নাহিদা,

আশা করি আল্লাহর রহমতে ভাল আছো।  প্রথমে আমার প্রীতি ও ভালবাসা নিও। আসলে কি বলব তোমার রুপের কথা, যে দিন তোমাকে প্রথম দেখেছি সেদিন থেকে তোমার জন্য এই মনে একটি ভালবাসার ঘর বেঁধে ফেলছি। যে দিকে তাকাই শুধু তোমার ছবি ছাড়া যে কিচ্ছু দেখিনা। ঘুমাতে গেলেও যে তোমাকে দেখি। তোমাকে ছাড়া আমার যে এখন ভালো লাগেনা। তোমায় দেখলে বড় মায়া লাগে।  তোমাকে যে ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছি। আই লাভ ইউ নাহিদা৷ তোমাকে না পেলে যে আমি মরে যাব। 

তুমি আমাকে ভালবেসে ধন্য কর আমার এ জীবন। তোমার উত্তরের আশা রইলাম।সবিশেষ একটা কথা বলি ভালবাস প্রিয় আমাকে,আমি ভালবেসে যাব আজীবন তোমাকে।খুলে দাও তোমার ভালোবাসার দোয়ার-আমি ভালবেসে হতে চাই শুধুই তোমার।।

ইতি তোমার ভালবাসার প্রিয় মানুষ,

নাহিদ

-

নাহিদা সে চিঠিটা তার ভাইয়ের কাছে দিল। তারপর নাহিদার  ভাই সেই চিঠি পড়ে রেগে আগুন হয়ে গেল। অনেক খুঁজে নাহিদের ঠিকানা বের করল।। একদিন কলেজে নাহিদ কে তার ভাই ডেকে নিয়ে এইসব জিজ্ঞেস করে কিন্তু নাহিদ বলে আমি তো এই নামে কাউকে ছিনিনা আমি তাকে প্রেমপত্র দিতে যাব কেন। তার ভাই কিছু না বুঝে গালিগালাজ করতে লাগল একপর্যায়ে নাহিদ কে মেরে আহত করে রেখে যায়। তারপর লোকজন তাকে দেখতে পেরে হাসপাতলে নিয়ে যায়।

এইদিন আমরা কলেজে কেউ যায়নি শুধু নাহিদ একা গিয়েছিল কলেজে। যখন জানতে পারলাম তার এই অবস্থা সাথে সাথে আমরা তিন বন্ধু হাসপাতালে চলে গেলাম।  গিয়ে দেখলাম তার অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা তাকে স্বান্তনা দিলাম। তারপর এই বিষয়টি সবাই জেনে যায়।  এই নিয়ে জামালগঞ্জ  থানায় একটি মামলা হয়। আস্তে আস্তে নাহিদ সুস্থ হয়ে উটল।। তখন এই বিষয়টি সবার সামনে প্রকাশ হল কে করেছে এই কাহিনি সবাই জেনে গেলে খোকন আর রফিকুলের ষড়যন্ত্রে এইটি হয়েছে। সেজন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতে  তাদের বিচার হয় তাদের দুইমাস জেল হয়। বিচারের দিন প্রথম নাহিদ নাহিদা দেখেছিল নাহিদাও এই প্রথম নাহিদ কে দেখল। নাহিদা ছিল দেখতে রক্তজবা ফুলের মতো এক কথায় অসাধারণ দেখলে যে কেউ প্রেমে পড়ে যাবে। নাহিদ ছিল অনেক সুন্দর তেমনি ভাল স্বভাবের। নাহিদ কে দেখে সে লজ্জা পেল আসলে নাহিদা এখন ভাবতেছে যে তার সাথে এমনটা করা টিক হয়নি। বিচারের শেষে নাহিদা বাসায় চলে এল। এসে ভাবতে লাগল এ আমি কি করলাম ওর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে নয়তো আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবনা। হঠাৎ একদিন দেখা হয়ে যায় নাহিদের সাথে নাহিদার। নাহিদ কে দেখে কেমন আছো জিজ্ঞেস করলে উওর দেয়নি নাহিদ। নাহিদা বলে আপনি অভিমান করে আছেন আমার সাথে প্লিজ কথা বল দেখ নাহিদ আমার এই কাজের জন্য আপনার কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থী প্লিজ আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। নাহিদ মেয়েটিকে ক্ষমা করে দিল।  এইদিন মেয়েটি নাহিদের নাম্বার নিল। প্রায় এক সপ্তাহ  পরে বাসায়  ফোন দিল নাহিদের মোবাইলে- নাহিদ কল ধরে বলল আসসালামু আলাইকুম। কে বলছেন?  এই দিক দিয়ে মিষ্টি কন্ঠে   উওর আসল ও ছিনতে পারছেন না বুঝি? ও বলল না কে আপনি? মেয়েটি বলল আমি নাহিদা।  এবার চিনতে পেরেছ।  ও নাহিদা ছিনতে পেরেছি। কেমন আছেন? জ্বী ভাল আপনি? আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। মেয়েটি বলল আচ্চা আপনাকে একটা কথা বলি-কি কথা,বল? রাখবে তো - আহা বলবে তো আগে তারপর দেখা যাবে।  এইদিক থেকে মিষ্টি কন্ঠে ভেসে আসল আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি নাহিদ i love you........

নাহিদ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। মেয়েটি বলল কি হল কথা বল চুপ করে রইলে যে। নিরবতা কিন্তু সম্মতির লক্ষণ। ও বুঝতে পেরেছি   আপনি  আমাকে ভালবাসেন। নাহিদ কিছু না বলে কলটি কেটে দিল। আর ভাবতে লাগল বলে কি মেয়েটি ওকে ভালবাসলে লোকে কি বলবে। এভাবেই  প্রতিদিন ফোন দেয় মেসেজ দেয় ফোনে কথা বলে নাহিদ। কথা  বলতে বলতে কোনদিন যে প্রেমে পড়ে গেল সে নিজেও জানেন। আসলে সে তো জানতই না প্রেম কি জিনিস।  তবে সে এখন এটা বুঝতে পেরেছে যে কারো জন্যে সারাক্ষণই ভাবা ও তার জন্য এই মনে মায়া জাগাটাই হচ্ছে ভালবাসা। শুরু হল তাদের প্রেম ভালবাসা।  প্রতিদিন দেখা ও ফোন না হলে যেন তাদের ভাল লাগেনা।

মেসেজ তো কথাই নেই।  একদিন আমাকে তার এই প্রেমের কাহিনি  শুনাল আমি তো শুনে পুরাই অবাক।  বললাম-

 চালিয়ে যাও বন্ধু খালি

  পালিয়ে যেও না। 

প্রেম মানে স্বর্গের সুখ-

তাকে পেয়ে তোমার জীবন ধন্য হোক।

ও বলল দুরু ভালবেসে ফেলেছি যেহেতু থাকে আমি বিয়ে করব তাকেই। প্রেম চলতে চলতে দীর্ঘ এক বছর চলে গেল।  নাহিদা দশম শ্রেণিতে উটল আর নাহিদ উটল দ্বাদশ শ্রেণিতে। দ্বাদশ শ্রেণিতে উটে লেখাপড়ার চাপ বেড়ে গেল। এদিকে নাহিদার সামনে এসএসসি পরিক্ষা নাহিদের এইচ এসসি পরিক্ষা দুজনেই লেখাপড়ায় ব্যস্ত। হঠাৎ একদিন নাহিদার সাথে নাহিদের এই প্রেম কাহিনি নাহিদার মা,বাবা জেনে যায়। যার ফলে নাহিদার বাবা নাহিদের বাবার কাছে বিচার দিল। এদিকে নাহিদের বাবা নাহিদকে অনেক শ্বাসন করল যাতে এই মেয়েটি সে ভুলে যায়। কিন্তু নাহিদ বলল -বাবা নাহিদাকে না পেলে যে আমি মরে যাব ওকে ছাড়া আমার কিচ্চু ভালো লাগেনা।    

 মেয়েটিও তার বাবা মাকে  বলেছিল নাহিদ কে ছাড়া বাচব না আমি মরে যাব। নাহিদের বাবা খুবই টেনশনে এই বিষয়টির জন্য কি করা যায়। ছেলেকে কয়েকটা দিনের জন্য সিলেটে তার খালার বাড়িতে রেখে আসলে হয়তো সে এই মেয়েটিকে ভুলে যাবে সেই কথা চিন্তা করে নাহিদ কে সিলেটে খালার বাড়িতে রেখে আসল তার বাবা । সিলেট গিয়ে নাহিদ নাহিদার  ফোনে কল দিলে তার ফোনটি বন্ধ পায়। নাহিদ টেনশনে পড়ে যায় ফোনটি বন্ধ পেয়ে। 

হঠাৎ একদিন কলটা রিসিভ করল নাহিদা। ফোন রিসিভ করে নাহিদ বল নাহিদা তোমাকে  ছাড়া যে আমার একদম ভাল লাগেনা, যদি না পাই এ জীবনে তাহলে আমি মরে যাব। চল দুজন পালিয়ে যাই। নাহিদা তখন বলে উটল কি বলছ এসব  পালিয়ে  যেতে পারব না আমি। এছাড়া যে কোনো উপায় নেই। উপায় থাকলে থাকুন না থাকলে নাই পালিয়ে গিয়ে আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারব না। এসব কি বলতেছ নাহিদা তুমি কি ভূলে গেছ পুরনো কথা সেদিন তো বলেছিলে আমাক কখনো ভুলে যাবেনা আজ কেন এমন করতেছ। দেখ নাহিদা তুমি শুধু আমার। নাহিদা তখন বলল না আমার মা বাবা যা বলবে তাই আমি মেনে নিব। আমি মা বাবার ইচ্চা মত বিয়ে করব। আমার কি হবে? তোমার যা,হবার হোক ত আমি কি করব। বলতাছ কি নাহিদা তোমার মাথা কি টিক আছে। হ্যাঁ আমার সব ঠিক আছে আমি তোমার মত এত  পাগল না তুমি পাগল হয়ে গেছ। হ্যাঁ আমি পাগল হয়ে গেছি আর সেটা তোমার প্রেমের পাগল। তোমাকে না পেলে মরে যাব এজীবন আমি রাখব না - 

আজকের পর থেকে তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই বলে কলটা কেটে দিল নাহিদা৷ বার বার কল দেওয়ার পর ফোনটা বন্ধ করে দিল। নাহিদ পাগলের মত কাদঁতে লাগল। এদিকে নাহিদার বাবা নাহিদাকে বিয়ে দিয়ে দিল।বিয়ের তিন দিন পর যখন নাহিদ এ খবর জানতে পারল সে এই জ্বালা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করল। আমি যখন খবর পেলাম নাহিদ আর নেই আমার শরীরটা কেমন করে শীয়রে উটল৷  এটা তো এক অবিশ্বাস্য নাহিদ যে নেই সেই কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। সেই অবিশ্বাস্য কে মেনে নিয়ে আজও নাহিদের অপেক্ষায়।   

পৃথিবীতে প্রেম হচ্ছে স্বর্গের মত-আর সেই প্রেমে যদি বিরহ আসে তাহলে তা নরকে পরিণত হয়।

সবারি কপালে যে,

প্রেম রয় না।

প্রেম হলেও যে-

ভালবাসার ঘর বাঁধা যায় না,

তাই প্রেমের নাম হয়ে যায় বেদনা।     

কবি পরিচিতিঃ- আব্দুস সামাদ আফিন্দী নাহিদ    সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার  বেহেলী ইউনিয়নের আছানপুর গ্রামের ২০০০সালে জন্মগ্রহণ করেন।

 তার পিতার নাম মোঃ হারিছ উদ্দিন, মাতার নাম মৃত মোছাঃ আবেদা বেগম।

  লেখাপড়ার সুবিধার্থে পরিবার সহ নানার বাড়ি মানিগাঁও গ্রামে চলে আসেন। 

সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। স্থানীয়    মানিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১০সালে পিইসি,জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৬সালে ব্যবসায় বিভাগ থেকে  এসএসসি  পাশ করেন। এসএসসি পাশ করে বর্তমানে জামালগঞ্জ সরকারি কলেজে ব্যবসায় বিভাগে লেখাপড়ায় অধ্যয়নরত। তামিম রহমান চৌধুরী সম্পাদনায় তার প্রথম লেখা স্বাধীন বাংলাদেশ কবিতাটি প্রকাশিত হয়-এছাড়াও নিয়মিত বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে তার লেখা।  আব্দুস সামাদ আফিন্দী নাহিদ একজন সচেতন ও সৃজনশীল মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ঐতিহ্য নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কবিতা লেখালেখির প্রভাব দেখা যায়। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা করেন-দৈনিক স্বদেশ নিউজ ও সবুজ বিডি ২৪ পত্রিকায়।                                                                                              

Topics:

প্রেমের নাম বেদনা-আব্দুস সামাদ আফিন্দী নাহিদ

Login to comment login

Latest Jobs