Posted By

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

Fashion 16

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক:

২০১৫ইং সালকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বসন্তকাল বা হানিমুন পিরিয়ড বলা যেতে পারে। ২০১৫ইং সালে দুইটি দেশই একে অপরকে আস্থায় এনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উচ্চমাত্রায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। দুইটি দেশই সত্যিকার শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান এবং সু-প্রতিবেশীমূলক সু-সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। ভারতের নিরাপত্তাঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসী পদক্ষেপ গ্রহন করে ভারতীয় জনগনের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তেমনিভাবে স্থলসীমান্ত চুক্তি ভারতীয় পার্লামেন্টে অনুমোদন করিয়ে নরেন্দ্র মোদিও বাংলাদেশের জনগনের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। আমরা যদি আরেকটু পিছনে ফিরে তাকাই দেখব, ১৯৪৭ইং সালে পাকিস্তানের জাতির জনক কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয় এবং পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন দলে দলে পাকিস্তান গমন করেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দলে দলে ভারত গমন করেন। এই অভিবাসন ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী। ’৪৭ সালে দেশভাগ ছিল যেন-একমাত্র সন্তানের দাবীদার দুই মাতাকে সন্তান ভাগ করে দেয়া। ঔপনিবেশিক শক্তি দেশভাগ করলেও বিশেষ করে বাংলাকে বিভক্ত করলেও আতিœক ও সাংস্কৃতিকভাবে বাঙালিদেরকে ভাগ করতে পারেনি। দুই বাংলার মানুষগুলেরা ভাষা, সংস্কৃতি, রুচি, খাদ্যাভাস প্রায় অভিন্ন। পহেলা বৈশাখ, ঈদ কিংবা দুর্গোৎসবে দুই দেশের মানুষ কাটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে স্বজনদের কাছে ছুটে যায়। ’৭৫ এর ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স-পরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার পর উপ-মহাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ পাল্টিয়ে যায়। আমাদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ’৭৫ এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতারোহন করেন এবং হীন রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ইন্দিরা-মুজিব সম্পাদিত ২৫ বছর মেয়াদী ভারত বাংলাদেশ শান্তি চুক্তিকে গোলামির চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। এমনকি ছিটমহল সংক্রান্ত ইন্দিরা-মুজিব চুক্তিকে দেশবিক্রীর চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। ১৫ই আগস্টের নির্মম হত্যাকান্ডের যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য এসব অপপ্রচার চালানো হয়। এতে করে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ভারত আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। ভারতের সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতো বলে মনে হয় না। দীর্ঘ ২১ বৎসর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৯৬ইং সালে সরকার গঠন করেন এবং ভারতের সঙ্গে আমাদের সু-সম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টা গ্রহন করেন। দীর্ঘ প্রচষ্টার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি এবং ফারাক্কার পানি চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনয়ন পূর্বক বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে সু-সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন যা দেশবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা।

 

Topics:

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

Login to comment login

Latest Jobs