Posted By

ইনজেকশন প্রেম।

Beauty 25

 দুস্ত ঐ দেখ্না কি সুন্দর রে।বন্ধুর কথায় আমি ঐদিকে তাকালাম দেখলাম গ্রিলের নিচ দিয়া হাটু অব্দি দুখানি পা দেখা যাচ্ছে।নুপুরের মধুর আওয়াজ দিয়ে পা দুইখানি হেটে চলতে লাগল।মনে হল এটা সাধারণ কোন মানুষের পা নয়,হয়তো ইরানের কোন পরি আমাদের গ্রামটি পরিদর্শন করতে আসছে,কারণ এই রকম পায়ের অধিকারীনি আমার দেশের মেয়ে হওয়ার কথা নয়। এসব ভাবতে ভাবতে হারিয়ে গেলাম অজানা এক সুখের সাগরে। বন্ধু হালকা গা নাড়া দিয়ে বললঃ-আরে দুস্ত তুই এরকম হাবলার মত হয়ে গেছিছ কেন?? আমি বল্লামঃ-আর বলিছ নারে দুস্ত,কি যে দেখলাম?? মনে হচ্ছে জ্বিন পরী টাইপের কেউ ভুল বসত আমাদের গায়ে পা দুখানি রাইখছে। হুম তুই এভাবে না দেইখা, সামনে যাইয়া কথা বলে আয়, -আচ্ছা তাই করুম, কিন্তু তুইও ত সাথে আসবি নাকি?? -নারে দোস্ত আমি এখানেই থাকি। তুই যা আলাপ করি আয়। -আচ্ছা ঠিক আছে আমি গেলাম। এই বলে মাঠের গেইট দিয়ে বাহির হয়ে সোজা ওই পরীটার সামনে গিয়ে বল্লাম। হায় বিউটিফুল??? আমি কি আপনার নামটা যানতে পারি?? লুছে এভা(মেয়েটির উত্তর) বাহ্অনেক সুন্দর নাম ত(আমি বল্লাম) এটা কোন নাম না(মেয়েটি) ত বল্লেন যে এইটা কি তাহলে(আমি) এর মানে হচ্ছে, লুইচ্ছা ছেলে এখান থেকে ভাগ(মেয়েটি) আরে কি যাতা বলেন না! আমার আপনাকে ভাল লাগে বলেই ত আসলাম।আপনার সাথে পরিচয় হবো, নাম্বার নিব আর শেষে ছুটিয়ে প্রেম ও করব।(আমি) ওই বেড়া এত কথা কস কিয়া, এখন তর সামনে দুইটা অপশন আছে,১.হয় যাবি ২.না হয় নিবি।আচ্ছা তই কোনটা চাস বল?? তাহলে ত আমি নিবোই(আমি) ঠাস্স ঠাসস ঠাসস,যা দিলাম(মেয়েটি) কি ভাবছে নাম্বার,কিস কিছু দিছে???আরে না থাপ্পর দিছে থাপ্পর, একটা না দুইটা না পুরো তিনটা। আমি মুখ চেপে ধরে কোন রকম মাঠে বন্ধুর কাছে আসলাম। আসতেই বন্ধু বল্ল, দুস্ত খবর কি লাইন হয়ছে, নাম্বার পাইছচ,নাম কি,থাকে কৈ?? ধুর শালা এত প্রশ্ন একসাথে করলে উত্তর দিমু কি করে??(আমি রেগে বল্লাম) আচ্ছা সরি দুস, এবার ত বল ঘঠনা কি??(বন্ধু) আরে গেনর গেনর করিস না ত, ভাল্লাগছেনা আমার(আমি) তই বলবি ত হয়েছেটা কি(বন্ধু) আচ্ছা শুন(আমি) হ বল(বন্ধু) আমি  তার সামনে গেলাম,গিয়ে কইলাম হায় আপু কেমন আছেন আর ঐদিকে কৈ যান। অ আমার কথার উত্তর না দিয়া কি বইলছে যানছ?? কি বলছে(বন্ধু) বলছেএএএএএ(আমি) আরে বলনা কি বলছে(বন্ধু) ও বলছে, আপনার বন্ধু নাইম আছে না(মানে তর কথা বল্ল আরকি)আপনারে কি ওও পাঠাইছে??(আমি) আরে কি বলিস ও আমাকে কিভাবে চিনে?(বন্ধু) চিনে চিনে না চিনলে কি বলত?(আমি) আমি বল্লাম হ, ও পাঠাইছে, তখন মেয়েটা বলছে ওওর কি এত লজ্জা যে আমার সামনে আসতে পারে না??ও অন্য মানুষকে কেন পাঠাই??? আরে কি বলিস এসব(বন্ধু) হ, তুরে অর লগে দেখা করতে বলছে(আমি) দেখাত অবশ্যই করব,তবে দুস্ত কি জানিস আমার না কি রকম লাগতেছে(বন্ধু) হ,মনে মনে বল্লাম আজকে কি লাগার যা লাগার কালেই ত লাগবে। দুস্ত আমার ভাবতেই না ভাল্লাগতেছে,একটা পরির মত সুন্দর মেয়ে যে তর ভাবি হবে।আচ্ছা! দুস্ত আসলেই তর ভাবি অন্য রকম না?? কি রকম কালকে বুজবি(গালের ভিতর ভিতর আস্তে করে বল্লাম) আচ্ছা ঠিক আছে দুস্ত কালকে মাঠে আসিছ(বন্ধু) হুম আসব(আমি) গাল ডলতে ডলতে বাড়ির দিকে যাচ্ছি,আর ভাবছি নাইমকে(বন্ধু) কালকে কি রকম পেদানি দে আল্লাহই জানে। বাড়িতে এসে গালে মলম লাগিয়ে খাওয়া দাওয়া না করে ঘুমিয়ে গেলাম। পরেরদিন......... সকালে আম্মুর ডাকে ঘুম ভাঙ্গল। এই কলেজে যাবি না তুই(আম্মু) আজকে যাব না ভাল্লাগতেছেনা।(আমি) কেন যবি না?(আম্মা) বল্লাম না ভাল্লাগতেছেনা(রেগে গিয়ে বল্লাম) এভাবে বিছানায় এদিক ওদিক করতে করতে সকাল থেকে দুপুর আর দুপুর থেকে বিকাল গড়িয়ে এলো। এবার মাঠে চলে আসলাম এসে দেখি বন্ধু নাইম আগে থেকে দাড়িয়ে আছে। কিরে কখন আসলি(আমি) এইতো একটু আগে(বন্ধু)  ত তর পরিকে দেখছিচ????(আমি) না, এখনো আসে নাই মনে হয়(বন্ধু)  ওওওও(আমি) আসলেই দুস্ত তর ভাবি একটা..........(বন্ধু)  হুম ভাবি একটা পুরাই........কথাাটা শেষ না করতেই দেখি গ্রিলের নীচ ঐ পা দুটি নাচতেছে....সাথে নুপুরের সুন্দর ধ্বনিতো আছেই, দোস্ত দেখ দেখ ভাবি আইসা গেছে(আমি) তাইত দেখছি,চল দেখা করে আসি(বন্ধু) আচ্ছা তুই যা আমি এখানে আছি(আমি) হুম,,তুই বস আমি আসি(বন্ধু)  আমি ত মনে মনে দোয়া দুরুদ পড়তেছি,আর ভাবতেছি ঘুর্ণিঝড়টা কত কিলো বেগে আঘাত হানে আল্লাই জানে ।ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবে না ত আবার ।কি জানি,আল্লাহ ভরসা। নাইমের পিছন পিছন গিয়ে গ্রিলের ফুটোয় দিয়ে ওকি মারলাম।বাহ্,বন্ধু আমার নাইম দেখলাম বীরের মত করে মেয়েটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।আমি যথা সম্ভব দোয়া দরুদ চালিয়ে যাচ্ছি।স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলাম তবু ঘেমে যাচ্ছি।  নাইম পরীর দিকে এগিয়ে গিয়ে বল্ল.............………… আই লাভু টু সোনা(বন্ধু) হুয়াট??পাগল নাকি আপনি(মেয়েটি) ডন করো না ত সোনা(মেয়েটিকে হঠাৎ জড়িয়ে ধরে) এদিকে আমার  হার্ট এট্যাক হওয়ার অবস্থা। আল্লাহর কাছে মুনাজাত ধরছি বন্ধুটারে যেন প্রান নিয়ে ফিরায়ে আনে। এই ছাড়ুন বলছি ছাড়ুন(মেয়েটি) না সোনা আর ডন করো না ত ভাল্লাগেনা এত ডন(বন্ধু) ঠাস ঠাসস ডিসুম ডিসুম, কি ভাবছেন?? এইডা পাদের আওয়াজ??আরে নাহ,এইডা পাদের আওয়াজ না,পেদানি দিছে পেদানি। যথাযত পেদানি দিয়ে, দেখি মেয়েটি চলে যাচ্ছে।আর এই দিকে বন্ধু আমার রাস্তায় পড়ে অজ্ঞান। আমি তারাতারি গিয়ে ওকে ওঠালাম।পানি টানি ঢালার পর দেখলাম হুশ আইছে। হুশ আসার পর জিঙ্গেস করলাম কি হয়ছে দুস্ত তর।তুই বেচে আছিচ ত। দুস কি হয়েছে তা পরে জিগাইচ, আগে আমার এদদিকে একটু দেখ।দেখলাম মুখ ফেটে ব্লাডে একাকার অবস্থা। এবার খারাপ লাগা কাজ করতেছে,নিজের বন্ধুরে এভাবে মাইর না খাওয়াইলে ওও পারতাম।তবু প্রতিশোধ বলতে একটা কথা।

ওই কি ভাবছিচ তুই, এদিকে আমি মইরা যাচ্ছি।তর পা ধরি প্লিজ আমাকে কিছু একটা কর।(বন্ধু) কি আর করার, বন্ধুকে ত বাচাতে হইব।কিছু না ভেবে বন্ধুকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলাম।নেওয়ার পর ডাক্তার দেখল, ডাক্তার জানাল একদিন ভর্তিতে রাখতে হবে। ভর্তি দিলাম আর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঔষধ পত্র এনে।নার্সের রুমে গিয়ে......... এক্সকিউজ মি.(আমি) কি চায়(ওদিকে ফিরে) ২৭ নং সিটের ঔষুধ পত্র সব রেডি একটু আসবেন??(আমি) তু(মেয়েটি আমার দিকে ফিরে) আমার চোখ ত তড়ক গাছ,এই ত সেই মেয়েটি যে কালকে আমারে আর আজকে আমার বন্ধুরে পেদানি দিছে। আল্লাহ এই ডাইনির হাত থেকে আমাকে বাচাও! কি! কিছু বলছেন না যে মিস্টার, এত কি ভাবছেন।মেয়েটি) না মানে ইয়ে(আমি) কি না মানে ইয়ে!(মেয়েটি) না,হ্যাঁ......ও(আমি) হুম,বুঝলাম,ভাবছেন আমি এখানে কেন? রাইট?(মেয়েটি) হ....এয়ে মানে(আমি) হ্যাঁ, আমি এখানে চাকরি করি মানে নার্স।(মেয়েটি) ওওও আগে ত দেখিনি(আমি) জয়েন দিছি মাত্র দুইমাস,আচ্ছা চলেন দেখি আপনার পেশেন্টের কি অবস্থা(মেয়েটি) হুম চলেন(আমি) সিটের কাছে এসে......... ওহ একটু জুরে লেগেছে না?(মেয়েটি) বন্ধু আমার এদিকেনফিরার সাথে সাথে জোরে লাফ দিয়ে ওঠে..... প্লিজ আমাকে আর মাইরেন আমি আর কিছু করবনা! হুম কিছু করব না, হাতটা এদিকে দাও(হালকা মুচকি হেসে মেয়েটি বল্ল) আমি ওর হাসি দেকে আবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম,আর ভাবছি হাসির মত যদি তার মনটা সুন্দর হতো আমি নিশ্চিত প্রেমে পড়ে যেতাম।এসব ভাবতে ভাবতে একমহা ভাবনার জগতে হারিয়ে গেলাম।ভাবনার মধ্যকার ইতি গঠিয়ে............. এত কি ভাবছেন হু,ঔষধ পত্র গুলি দেন।(মেয়েটি) হুম এই নেন(আমি) এবার ওনি ঔষধ পত্র বুজিয়ে দিয়ে রুমে চলে গেল।...................... এভাবে একদিন চলে যাওয়ার পর ডাক্তার আবার দেখল বল্ল আরেকদিন রাখতে। এর মাঝে আমি ঐ মেয়েটার বন্ধু হয়েগেছি,মানে অনেকটা আপন,সরাদিন শুধু ওর সাথে গল্প করতে করতে কাটিয়ে দিলাম।নামটাও জেনেছি, নাম তুতুল। দেখতে দেখতে ২দিন কেটে গেল।আজকে চলে যাব।এর মাঝে একটা ইনজেকশন বাকি ছিল ওঠা দেওয়ার জন্য গেলাম ওর রুমে.......... এক্সকিউজ মি(আমি) হুম,(মুখ আবছা কলো করে তুতুল জবাব দিল) আমরা চলে যাচ্ছি,একটা ইনজেকশন দেওয়া বাকি ছিল যদি দিয়ে দিতেন(আমি) শুধুকি ইনজেকশন দেওয়ার জন্য ডাকছেন?(তুতুল) মানে?(আমি) না, কিছু না(তুতুল) ইনজেকশন দেওয়ার পর...... আচ্ছা দোয়া করবেন আাসি তাহলে...(আমি) পিছন ফেরার সাথে সাথে....... এইজে শুনুন (তুতুল) জ্বি আমাকে বলছেন(আমি) আপনাকে নইতো কাকে(মুখ কালো করে তুতুল বল্ল) হুম.......(আমি) হঠাৎ দৌড়ে সামনে এসে, হাঠু গেড়ে বসে......ইনজেকশনটা গোলাপের মত করে নিয়ে........ সত্তিই আমি আপনাকে ১ম দিন থেকে শুরু করে এই কয়দিনে অনেক ভালবেসে ফেলেছি,আই লাভু(তুতুল) দেখুন এটি সম্ভব না,(সত্যি বলতে আমিও ভালবাসি, একটু ভাব নেওয়ার জন্য বল্লাম) সত্যি সত্যিই আমি আপনাকে অনেক ভালবেসে ফেলেছি,আপনাকে না ফেলে আমি মরে যাব(তুতুল) না না এটা সম্ভব না।(আমি) ওই মিয়া, ভালবাসবেন নাকি ইনজেকশন ফুটায় দেব এডা ক(তুতুল ইনজেকশনটি নিয়ে সামনে এগুচ্ছে) সাথে সাথে আমি বল্লাম ...... আই লাভু টু তুতুল,আমি তোমাকে ১ম দেখাতেই ভালবাসি(আমি) সাথে সাথে ইনজেকশন ফেলে দিয়ে আমার বুকে ঝাপিয়ে পড়ল।মিনিট পাচেক এভাবে জড়িয়ে থাকার পর দেখলাম দুস্ত আমার হাসতে হাসতে হাত তালি দিচ্ছে। #সমাপ্ত লেখকঃ তাহের।

Topics: আজও অনেক ভালবাসি সোনা।

ইনজেকশন প্রেম।

Login to comment login

Latest Jobs